বৃষ্টির আশায় রংপুরে নামাজ

রংপুর প্রতিনিধি,

তীব্র গরম আর অনাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরের জেলা রংপুরের জনজীবন। তাই বৃষ্টির আশায় একসঙ্গে ‘ইস্তেখারার নামাজ’ আদায় করেছেন শত শত মানুষ।
বর্ষাকালের মাঝামাঝিতেও রংপুরে দেখা নেই বৃষ্টির। একইসঙ্গে প্রচণ্ড গরম আর তাপদাহে যেমন শুকিয়ে গেছে খাল-বিল, ফেটেছে আবাদি জমি, তেমনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ।
অনাবৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ও বৃষ্টির প্রার্থনায় তাই সম্মিলিত ইমাম সমিতি জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় এই নামাজ আদায় করা হয়। রংপুরের কালেক্টর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে খুতবা, নামাজ, মোনাজাত ও বক্তব্য মিলিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে তা চলে।
নামাজে ইমামতি করেন সম্মিলিত ইমাম সমিতির সভাপতি, মওলানা কেরামতিয়া মসজিদের খতিব বায়জিদ হোসাইন। নামাজে অংশ নেন রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু, সম্মিলিত ইমাম সমিতি রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, মহানগর শাখার সভাপতি মুসলিম জেহাদীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নামাজ শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের অপরপ্রান্ত সিলেটের দিকে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি খরা মৌসুম দেখা দিয়েছে রংপুরে। দিনাজপুর জেলার যেসব খাল ও বিল এই সময়ে পানিতে পরিপূর্ণ থাকত, সেগুলো আজ মরুভূমির মতো শুকিয়ে পড়েছে।
“তাই ইমাম সমিতির উদ্যোগে আজ এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করেছি।”
সম্মিলিত ইমাম সমিতি রংপুর জেলা শাখার সভাপতি বায়জিদ হোসাইন বলেন, “অনাবৃষ্টির কারণে আমাদের এই এলাকায় একটা বিপদ বয়ে যাচ্ছে। রৌদ্র আর খরার কারণে কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের মনে আজ শান্তি নেই। তাই আমরা ইমাম সমিতির পক্ষ থেকে এই নামাজের আয়োজন করেছি।”
তিনি আরও জানান, বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় একই স্থানে নামাজ আদায় করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.