লোড শেডিং নিয়ে আমার কিছু কথা

প্রথমেই বলে রাখি আমরা জনগন, আমরাই দেশের প্রকৃত মালিক। সরকারকে পরামর্শ উপদেশ দিতে আমাদের কারো কাছ থেকে কোন্ সনদ পত্রের প্রয়োজন নেই বা নেয়া লাগবেনা। প্রসংগ :- লোড শেডিং :-আমি মাত্র HSC পাশ করা একজন সাধারণ নাগরিক।পদবী বলতে আর কোন্ সনদপত্র বা আইডি কার্ড নেই। যতটুকু বুঝি তা মনের ভাব প্রকাশ করলাম মাত্র।

 

দেশের অর্থনীতি বলুন, আর বিশ্ব অর্থনীতি বলুন, সমগ্র অর্থনীতি মানব দেহের শরীরের মতো। যেমন পায়ে আঘাত পেলে মুখ দিয়ে ফু বের হয়,চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়,সাড়া শরীরে ব্যাথার কারণে জ্বর এসে যায় এমনটা। নির্দিষ্ট সময়ে তৈরীকৃত মাল গ্রাহকের হাতে তুলে দিতে হলে জেনারেটর বা ওভার টাইম দিয়ে তৈরী পোষাকের কস্টিং খরচ বাড়বে,বেশী টাকায় মাল প্রতিযোগীতামূলক বাজার হারাবে।

 

 

রপ্তানি আয় যদি না থাকে বা কমে যায় তাহলে আপনি কোন্ মুদ্রার বিনিময়ে ডায়াবেটিক রোগীর ইনসুলিন সহ নানান ঔষধ,পেট্রোল, ডিজেল, গাড়ী যন্ত্রাংশ, সয়াবিন তেল, রান্নায় সিলিন্ডারের গ্যাস ইত্যাদি আমদানি করবেন? সবতো কিনতে হয় ডলারের বিপরীতে, দেশী টাকায় নয়।অন্যদিকে পোষাক শিল্প টিকতে না পারলে উইকেট পরতে থাকবে ধারাবাহিক তালে।মালিক >কর্মচারী> ব্যাংক >ভাড়াটিয়া শূন্য বাড়িওয়ালা >কাঁচামালের বাজার >পণ্য পরিবহন+বাস সার্ভিস >কৃষিতে।আরো অনেক শাখা প্রশাখা আছে।গরমে মুরগী অসুস্থ হয়ে মুরগীর ফাার্ম বন্ধ হবে, গরমে গরু দুধ কম দিবে।জেনারেটর ব্যবহার মুরগী ডিম দুধের মূল্য বাড়বে।

 

 

 

মানুষের একদিকে আয় কমবে অন্যদিকে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে অভাবের তারনায় চুরী ছিনতাই ডাকাতি।ঘটনার সময়ে বাধাঁ দান কালে রেপ ও হতাহতের ঘটনা বাড়বে। এসি নির্ভর শপিংমল, লিফট নির্ভর বড় এপার্টমেন্ট এর উঁচু তলার বাসিন্দারা বিপাকে পরবে।আয় না হওয়ায় বাজেট সফল হবেনা।বেতন বোনাস বকেয়া ফলে অসন্তুষ্ট হবে সরকারী কর্মকতা কর্মচারীগন। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় পুলিশ সিপাহিরা বিদ্রোহী হতে পারে,হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

ডায়রিয়া হলে প্যারাসিটামল খেলে ঔষধের রিএ্যাকশন হতে পারে।আমাদের এলাকায় প্রথমে ড্রেন না থাকায় সবাই পাল্লা দিয়ে বাড়ীঘর উঁচু করছিলো এবং একে অপরের সাথে বিবাদ করতো,সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে একটি পানি নামার লাইন তৈরী করে সব পানি নামাই।একটা এসিতে ১ঘন্টায় যতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হয় শরীর শীতল করতে ততটুকু খরচে ১টা অটোরিকশা সাড়া দিনের চার্যে খরচ হয়, যার আয় দিয়ে সে শরীর নয় বরং বাবা মা সহ ৬/৭ জনের পেট শীতল করে।এসি বনাম অটোরিকশা নিয়ে বিবাদ না করে কাপ্তাই এর মতো আরো নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহন করা লাগবে।অটো রিক্সায় সৌরবিদ্যুৎও যোগ করা লাগবে।

 

 

গাড়ীর যাবতীয় কাগজপত্রের মতো এদেরও কাগজ পত্র থাকতে হবে যাহা টাকায় নবায়নযোগ্য। ফিসনেস চেক ও রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ তাদের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল চেক করবে। নবায়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে প্রতি মাসে ১০% হারে চক্র বৃদ্ধিহারে জরিমানা এবং ৩বছর পার রিক্সাটি সরকারের হয়ে যাবে যাহা নিলামে বিক্রয় হতে পারে।কম পক্ষে ৫টি অটোরিকশার সমান ১ টি এসিতে বিদ্যুৎ খরচ হয়।

 

এসি ব্যবহারে শরীর শীতল করতে অনুমোদন লাগেনা কিন্ত বাবা মা বউ বাচ্চাদের মুখে ভাত তুলে দিতে অনুমোদন লাগে।এরা কি আমার আপনার বাসায় ঢুকে ছুরি মেরে রেপ ডাকাতি খুন ছিনতাই চুরি করবে নাকি ভদ্রলোকের মতো স্বপরিবারে আত্মহত্যা করবে??রাস্তা ঘাট ব্রীজ মেট্রোরেল নির্মান সহ সকল প্রকার উন্নয়ন আপাতত স্হগিত রাখুন।ঝড় থামতে দিন। বিদ্যুৎ সচল রাখুন।পরনির্ভরশীলতা কমান।

 

এই ফাঁকে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ এর মত নতুন নতুন প্রকল্পে হাত দিতে পারলে ভালো। তারপর বিদ্যুৎ চালিত গাড়ীর দিকে নজর দিন।তারপর পেট্রোল ডিজেল কিনা বন্ধ করুন।স্বাবলম্বী হোন।চলমান দুটো শিক্ষা আপনার সামনে আছে (১)কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ (২) শৃলংকার মানুষদের করুন অবস্হা। তাদের অনেকেই হয়তো দোয়া করছে কেয়ামত এসে যাক।DO OR DIE. “আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। [সুরা রা’দ – ১৩:১১]”

Leave a Comment

Your email address will not be published.