ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিলে বিচার নাই, বিচার আছে পদ্মা সেতুর অনুভুতিতে।

বাংলাদেশে যদি সবমিলিয়ে ৫ লক্ষ মসজিদ থাকে, তারমধ্যে এসির মসজিদ হবে সর্বসাকুল্যে ৫%। মানে, ২৫,০০০ মসজিদে। বাকি ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার মসজিদ হলো এসিবিহীন।
এদেশের হাজার হাজার গ্রামের মসজিদ, বাজারের মসজিদে এসি নেই। মসজিদের ইমাম সাহেবের বেতন সেসব মসজিদ ঠিকমতো দিতে পারে না, মসজিদে এসি লাগানো তো তাদের কাছে ভাঙ্গা ঘরে টাইলস লাগানোর মতো।
তাহলে এসি মসজিদ আছে কোথায়?
পৌর-শহরের কিছু মসজিদে এসি থাকে, জেলা সদরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে এসি থাকে, শহরের আবাসিক এলাকার কিছু মসজিদে এসি থাকে, ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি এরকম অঞ্চলের মসজিদগুলোতে এসি থাকে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো- গুলশান, বনানি, বসুন্ধরা, ধানমন্ডির যেসব এলাকার মসজিদে এসি থাকে, সেসব মসজিদে যারা নামাজ পড়তে আসে, তাদের কমপক্ষে ৩০% মুসল্লীর বাসায় এসি আছে, অফিসে এসি আছে। তাদের কাছে মসজিদে এসি থাকাটা ‘বিশেষ’ কিছু না। তারা অফিস-বাসায় গরমের দিনে কমপক্ষে ৮-১০ ঘন্টা এসি ব্যবহার করে।
অথচ সেইসব মসজিদে নামাজের সময় যদি এসি চালানো হয়, ৫ ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ কতোক্ষণ এসি চালানো থাকে? সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টা।
দেশের সর্বোচ্চ ২৫,০০০ মসজিদে দিনে ৩ ঘন্টা এসি চালু থাকলে আমাদের দেশের হর্তাকর্তারা নড়েচড়ে বসেন, বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে বলে হাউকাউ করেন৷
তাদেরকে বলতে চাই…
১. আপনি বিদ্যুৎ অপচয়ের কথা যখন বলছেন, সেই মুহূর্তে আপনার অফিসে এসি চালু আছে। এসির মধ্যে থেকে আপনি এই স্টেইটমেন্ট দিচ্ছেন।
২. মসজিদে এসি চালানোর জন্য সরকার থেকে কি ভর্তুকি দেয়া হয়? বিল কি ফ্রি করা হয়েছে? তা তো হয়নি। তাহলে জনগণের টাকায় পরিচালিত মসজিদে এসি চালানো হলে আপনাদের সমস্যা কী? এই ব্যাপারে কেনো হস্তক্ষেপ?
৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এসির আলাপে কনসিস্ট্যান্ট না থাকা। দেশের অফিস, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি, সুপার শপে দিনে কমপক্ষে ৮-১০ ঘন্টা এসি চালু থাকে। সেগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই, শুধুমাত্র মসজিদে ৩ ঘন্টা এসি চললে সেটা নিয়ে আপত্তি কেনো?
এই গরমে ঘামে ভিজে জুবুথুবু হওয়া একজন রিক্সাওয়ালা ২০ মিনিটের জন্য একটি ব্যাংক বা বড়ো কোনো কোম্পানিতে ঢুকতে পারে না সামান্য কমফোর্টের জন্য। কারণ, তাকে ঢুকতে দেয়া হবে না।
কিন্তু, মসজিদ তার জন্য ওপেন। সে ঘামে ভিজে মসজিদে প্রবেশ করলে কেউ তাকে বাধা দিবে না। দিনের যেই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গরম লাগে, ঐ মুহূর্তে খেটে-খাওয়া মানুষ মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নিলে আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানাই।
মানুষ মসজিদে আসুক। যুহরের নামাজ শেষে ইমাম সাহেব মসজিদে আসা মানুষদের উদ্দেশ্যে ৫ মিনিট কথা বললে তার শুনতে খারাপ লাগবে না। কারণ, সে শারিরীক ও মানসিক কমফোর্ট পাচ্ছে৷ কিন্তু, ঘামে ভিজছে, মশায় কামড়াচ্ছে এমন মানুষের সামনে ২ মিনিট কথা বললে তার বিরক্ত লাগবে৷
মসজিদে আসা রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর মানুষগুলো এসির লোভে প্রবেশ করলেও সেটা তাদের হেদায়াতের উসীলা হতে পারে৷ নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে নও মুসলিমদেরকে গণিমতের মাল দিতেন, যাকাতের একটা খাত আছে তাদের পেছনে ‘ইনভেস্ট’ করার জন্য।
যেসব সেক্যুলাররা মসজিদে এসি চালালে বিদুৎ অপচয় হচ্ছে বলে হাউকাউ করে, এটার মাধ্যমে তারা মূলত তাদের মধ্যে থাকা সুপ্ত ইসলাম বিদ্বেষ প্রকাশ করছে। কারণ, তারা এই ক্ষেত্রে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.