আমাদের সোনার বাংলাদেশ টা এখন কোথায়

বর্তমান সরকারের আমলে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধাভোগী হাসান সারওয়ার্দীর পর সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন মেজর (অব:) দেলোয়ার হোসেন। সামাজিক গণমাধ্যমে নীতিকথা ও তথাকথিত দেশপ্রেম প্রদর্শনের আড়ালে যে কালো চেহারা লুকিয়ে আছে তা প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন। সেনাবাহিনীতে অবাঞ্ছিত ঘোষিত মেজর (অব:) দেলোয়ারের পরিচিতি সম্পূর্ণ শ্বশুর কেন্দ্রিক এবং তার শ্বশুরও সেনাবাহিনী থেকে বাদ অস্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়েছিলেন।

দেলোয়ারের শ্বশুর মেজর জেনারেল সাদিকুর রহমান চৌধুরী পাকিস্তান পন্থী কর্মকর্তা ও আইএসআই এর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নাম ব্যবহার করেই প্রতিষ্ঠা পান দেলোয়ার।
সাদিকুর রহমান ১৯৬১ সালে জিয়াউর রহমানের অধীনে একই রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন, তখন থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা। ১৯৭৬ সালে ৯৩ সাঁজোয়া ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে ২২ বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তাকে বরখাস্তের সুপারিশ
করা হয়। কিন্তু তকমায়ে কায়েদে আজম (টিকিউএ) পদক প্রাপ্ত আইএসআইয়ের বিশ্বস্ত একজন হিসেবে জিয়া তার চাকরি বহাল রাখেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি পাকিস্তানের এই পদক বুকে ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। ৩০ আগস্ট ১৯৭৮ থেকে ২৬ মার্চ ১৯৮২ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির মিলিটারি সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

জিয়াউর রহমান, সাদিকের ত্রাণকর্তা হলেও জিয়া হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। মওদুদ আহমেদের Democracy and the Challenge of Development বইয়ে উল্লেখ রয়েছে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মেজর জেনারেল সাদিকুর রহমান জোরপূর্বক আব্দুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে এবং এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে। বিনিময়ে এরশাদ তাকে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, ডিজি বিডিআর ও ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন।
স্পোর্টস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি, অসদাচরণ, সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ গ্রহণ এবং যুক্তরাজ্যের ব্যক্তিগত সফরকে দাপ্তরিক সফর দাবি করে অর্থ গ্রহণ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বগুড়ার জিওসি থাকাকালে ১৯৯৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

দেলোয়ার, সাদিকুর রহমানের এডিসি ছিলেন। সাদিকুরের কন্যা সাইজা চৌধুরী এক মুদি দোকানদারের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে পালিয়ে গেলে ধরে এনে ১৯৯৪ সালে দেলোয়ারের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়। ২০০০ সালে অর্থের লোভে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় অবসর নেন দেলোয়ার। শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে অবসর নিলেও পরবর্তিতে সামরিক পোশাক পরিধান, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক, চারিত্রিক স্খলন ও নীতিমালা ভঙ্গের কারণে দেলোয়ারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সেনাবাহিনী। অতপর তিনি কানাডায় পাড়ি জমান।

গোলাম আযমের ছেলে আমান আজমীর সঙ্গে দেলোয়ারের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তার স্ত্রী সাইজাও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য। দেলোয়ারের মাঝে তৃতীয় লিঙ্গের প্রভাব থাকায় তার স্ত্রীকে নিয়ে বহু কথা প্রচলিত রয়েছে। দেলোয়ারের ছেলে ইয়াসেফকে মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে শখ্য থাকায় টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সতর্কীকরণ বার্তা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গোলাম আজমের পুত্র আমান আজমির সঙ্গে সম্পর্কই এসবের সত্যতা প্রমাণে যথেষ্ট।

মূল বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ছেলের সঙ্গে মিলে যে রাজনৈতিক বা আদর্শিক বন্ধন গড়ে ওঠে তাতে আর যাই হোক, দেশপ্রেমের মোহর অঙ্কিত করার ন্যূনতম সুযোগ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত সাম্প্রদায়িক বিপ্লবীদের যে চক্ষুলজ্জা, বিবেকবোধ ও স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানের অভাব রয়েছে তা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপেই প্রমাণ হয়ে আসছে। নিজেদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুশাসন না থাকলেও ইসলামের নাম ব্যবহার করে উস্কানি ও সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতায় যারা লিপ্ত তাদেরকে বয়কট করার জন্য সামান্যতম মানবিকতা ও ব্যক্তিত্বই যথেষ্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published.