হুজুর পাক (সঃ) এর কয়েকটা হাদিস স্বামী স্ত্রীর সম্বন্ধে।

১) রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করছেন,,,
আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে স্ত্রীলোক তার স্বামীর হক আদায় করেনা সে আল্লাহ তাআলার নাফরমান স্বামীর হক আদায় করার উপর আল্লাহ তায়ালার হক নির্ভর করে। ( ইবনে মাজাহ )
২) স্বামীর বিনা অনুমতিতে স্ত্রীর জন্য নফল নামায রোযা ও নফল রোজা রাখা জায়েজ নেই এবং বিনা অনুমতিতে বাইরের কোনো লোককে ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া মহা অন্যায়। ( বুখারী )
৩) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন,,, আমি রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরজ করলাম যে,,, কোন নারী সবচেয়ে বেশি ভালো ??? তদুত্তরে তিনি ইরশাদ করলেন ওই নারী শ্রেষ্ঠ যাকে স্বামী যখন দেখে তখন আন্তরিক সুখ অনুভব করে এবং স্বামী যখন কোনো নির্দেশ দেয়,,, তখন তারা তা পালন করে;;; আর নিজের আত্মমর্যাদা ও অর্থ- সম্পদের ব্যাপারে অপছন্দনীয় কথা বলে স্বামীর বিরুদ্ধে যায়না।
দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ পূর্ণাঙ্গরূপে কোন দাম্পত্যের মাঝে কেবলমাত্র তখনই দেখা দেয় যখন স্বামী স্ত্রী মাঝে থাকবে প্রেম পিরিতি ভালোবাসা আর এটা তখনই গড়ে ওঠে, যখন একে অন্যর অধিকার আদায় করে দেয়।
৪) ইবনে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন… পিতা বলেন- আমি রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমাদের স্ত্রীদের প্রতি আমাদের কি কি অধিকার রয়েছে ??? তদুত্তরে তিনি বলেন-
(১) যখন তুমি পানাহার করো তখন তাকে পানাহার করাও (২) যখন তুমি পোশাক গ্রহণ করো তখন তাকে পোশাক দাও। (৩) স্ত্রীর চেহারায় কখনো আঘাত করবে না । (অর্থাৎ ভুল করলেও মারবে না। আর নির্দোষ থাকলে কাউকে মারা তো যে কোন সমাজে অন্যায়।) কখনো ক্রুব্ধ হয়ে হস্ত পর্যন্ত স্পর্শ করবে না (৫) তার সাথে উঠাবসা করা বন্ধ করে গৃহ ত্যাগ করবে না, তবে নিজ গৃহে পৃথক অবস্থানে থাকা নিষেধ নয় । অর্থাৎ তার সাথে মন খারাপ করে ঘর থেকে বের হবে না। ( আবু দাউদ)
৫) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যামরার সূত্রে বর্ণিত,,, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন তোমাদের কেউ যেন স্ত্রীর ক্রীতদাসের মত মারপিট না করে । কেননা দিনান্তে আবার সেই মানুষের সাথে মিলিত হতে হবে। ( বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি)
৬) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সূত্রে রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ইরশাদ করেন,,, আমি তোমাদেরকে স্ত্রীদের ব্যাপারে উত্তম ব্যবহার করার নসিহত করছি। আমার এই উপদেশ তোমরা কবুল করো। কারণ, নারীদেরকে আল্লাহপাক শরীরের পার্শ্বদেশের হাড্ডি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । এখন যদি তোমরা ষোন আনা তাদের সোজা করতে চেষ্টা করো, তবে তা ভেঙে যাবে এবং পারস্পারিক সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটবে । আর যদি তাদেরকে স্বতন্ত্রবস্থায় উপর ছেড়ে দাও, তবে তারা যে বাঁকা সে বাকাই থেকে যাবে। এজন্য আমি তোমাদেরকে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার উপদেশ দিচ্ছি। ( বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি)
হাড্ডি সোজা করার মর্ম হলো তাদের কোন কথা যদি স্বভাবের সাথে না মিলে, তবে তার সংশোধনের পর চেষ্টায় সফল হতে পারবে না। যদি তাতে ত্রুটির পিছনে লেগেই থাক, তবে চূড়ান্তরূপে সম্পর্কের ইতি ঘটবে। এই জন্য ছোট-খাটো তুচ্ছ ব্যাপার এড়িয়ে চলা উচিত এবং সাথে এটাও জেনে রাখা উচিত, তাদের প্রতি কঠোর ব্যবহার ও বেপরোয়া হয়ে উঠলে কখনো কখনো শয়তান স্ত্রীদের অন্তরে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস জুগিয়ে দেয়।
৭) হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, আমি ও মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রসূল (স) এর খিদমতে হাজির ছিলেন। ইত্যবসসরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু [ অন্ধ সাহাবী] এলেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা উভয়ে পর্দার ভিতরে চলে যাও। আমরা আরোজ করিলাম, ইয়া রসুলুল্লাহ ! তিনি তো অন্ধ, তিনি তো আমাদের দেখতে পাচ্ছেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, তোমরা কি অন্ধ হয়েছো যে, তাকে দেখতে পাচ্ছ না। ( তিরমিযি, আবু দাউদ )
এটাও স্ত্রীদের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত যে, পর পুরুষের থেকে তাকে এমন ভাবে পর্দায় রাখবে, যাতে কেউ দেখতে না পায় আর সেও কাউকে দেখতে না পায়। এর ভিতরে স্ত্রীদের দ্বীনের হিফাজত নিহত হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে তারা পর্দাহীনতার অমঙ্গলতা থেকে বাঁচতে পারে। আর্থিক উপকারিতা এখানে অজানা নয়, কারণ অভিজ্ঞতায় বলে, কোন জিনিস সম্পর্কে যখন বেশি বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়, তখন তার সাথে নিবিড় ও প্রগাঢ় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পর্দার মাঝে এই উপকারিতা যে বিদ্যমান তা বলাই বাহুল্য। এর মাধ্যমে তার সাথে সম্পর্ক গভীর হবে এবং তার অধিকারও বেশি সংরক্ষিত হবে।
৮) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সূত্রে রসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,,, আমি যদি কাউকে কারোর জন্য সিজদার নির্দেশ দিতাম তবে আমি অবশ্যই স্ত্রীদের জন্য স্বামীকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতাম। (তিরমিযী)
এর দ্বারা স্বামীদের যে কত বড় হক তা প্রমাণিত। ইবনে আবি আওফার ( র) সূত্রে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি ঐ সত্তার শপথ করে বলছি, যার কুদরতি হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, স্ত্রীরা ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর হক আদায় করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার স্বামীর হক আদায় না করে। (ইবনে মাজাহ)
_____________________________________________
শুধু নামাজ ও রোজা আদায় করে যেন কোন স্ত্রী এটা মনে না করে যে, আমি আল্লাহর হক আদায় করে ফেলেছি। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর হক আদায় না করা হয়।
কারণ, স্বামীর হক আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক।
_____________________________________________
৯) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- স্বামীর হুকুম পালন করা স্ত্রীর প্রধান কর্তব্য। যে পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোক স্বামীর হক আদায় না করে সে পর্যন্ত স্ত্রী ঈমানের প্রকৃতি স্বাদ হাসিল করতে পারে না।
( হাকেম)
১০) হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আরো বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা সেসকল স্ত্রীলোকদের প্রতি দৃষ্টি করতে ঘৃণা করেন যারা স্বামীর মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা।
( নাসায়ী)
১১) যখন কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন ওই স্বামীর জন্য নির্বাচিত হুরগণ বেহেশতে বসে বলতে থাকে হে হতভাগিনী! আল্লাহ তাআলা তোমাকে ধ্বংস করুক! স্বামীকে এভাবে জ্বালাতন কোরো না। কারণ তোমার স্বামী তোমার নিকট কয়েকদিনের জন্য আছে মাত্র। এরপরে আমাদের নিকট চলে আসবে।
( তিরমিযী)
১২) যখন স্বামী ডাক দেয়, তখন যদি স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেয় রাগ এই অবস্থায় শুয়ে থাকে, তাহলে ভোর পর্যন্ত সমস্ত ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে
থাকে
( বোখাখী)
______________________________________________
১৩) স্ত্রীর প্রতি স্বামীর নারাজ থাকা পর্যন্ত তার নামাজ অন্য কোন আমল আসমান পর্যন্ত পৌঁছে না।
( তিবরানী)
______________________________________________
১৪) কোন এক সময় হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে আরজ করলেন যে,
নারীর প্রতি বেশি হক কার?
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেন- স্বামীর।
অতঃপর হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা আরজ করলেন, পুরুষের প্রতিবেশী হক কার? উত্তরে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন মায়ের।
( হাকেম )
১৫) স্বামীর নিজ স্ত্রীর জন্য জান্নাতি ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হতে পারে।
( নাসায়ী)
অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীর উপর খুশি থাকে, তবে সেই স্ত্রী বেহেশতের আশা করতে পারে আর স্বামী নাখোশ থাকলে স্ত্রীকে দোযখের আযাব ভোগ করতে হবে।
আল্লাহ যে সমস্ত আমার মুসলিম ভাইয়েরা দাম্পত্য জীবনে পা দিয়েছে তাদের সুখী ও সফল দান করুন।
। আমীন।
এবং যে সমস্ত ভাইদের বিয়ে হয়নি বা যাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর ছেড়ে চলে গিয়েছে উভয়কে নেককার বা উত্তম স্বামী-স্ত্রী নসিব করুন।
। আমীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.